মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন

দেশের উত্তরাঞ্চলসহ ছয় জেলা বন্যায় প্লাবিত,পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ।

নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ / ৩৪৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময়ঃ শনিবার, ২৭ জুন, ২০২০

নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ দেশের উত্তরাঞ্চলসহ ছয় জেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। জেলাগুলো হলো কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট, সিলেট ও সুনামগঞ্জ। কুড়িগ্রামে ধরলা-ব্রহ্মপুত্র বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দুই শতাধিক চর ও দ্বীপচরের নিম্নাঞ্চল। এসব এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। নিমজ্জিত হয়েছে ফসল ও গ্রামীণ সড়ক।

চরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলোয় বাড়িঘরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। এসব এলাকায় তলিয়ে গেছে পাট, ভুট্টা, সবজি, তিল, আউশ ধান ও কাউনের ক্ষেত। ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে নীলফামা’রীতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা দুই দিনের বৃষ্টির ফলে তিস্তাসহ জেলার সকল নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে আমন ধানের বীজতলার পাশাপাশি বাদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারণে বিভিন্ন পুকুরের মাছ বের হওয়ার ফলে মৎস্য চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তার চরাঞ্চলে ব’ন্যা দেখা দিয়েছে। উজানের ঢল সামাল দিতে খুলে দেয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট। তিস্তার ব’ন্যায় বসতঘরে পানি ঢুকছে। চরাঞ্চলে ১০ হাজার পরিবারের ৩০ থেকে ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ পানিব’ন্দি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা। তিস্তার ব’ন্যায় ডিমলা ও জলঢাকা উপজে’লার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশাচাঁপানী, ঝুনাগাছচাঁপানী, ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা, শৌলমা’রী, কৈমা’রীসহ ১০ ইউনিয়নের তিস্তা অববাহিকার ১৫টি চর ও গ্রাম ব’ন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ওই সকল এলাকায় বসবাসকারীদের নিরপদে উঁচু স্থানে সরে থাকার জন্য বলা হয়েছে। তিস্তার চরাঞ্চলের বাদাম ক্ষেত ও আমন ধানের বীজতলা হাঁটু থেকে কোমড় পানিতে তলিয়ে রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে জে’লার অধিকাংশ নিচু এলাকায় ব’ন্যা দেয়া দিয়েছে। অন্যান্য চার জে’লাতেও ব’ন্যার পানি ঢুকেছে অনেক গ্রামে। এতে পানিব’ন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ।

শুক্রবার (২৬ জুন) পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব’ন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কী’করণ কেন্দ্র জানায়, দেশের উত্তর-উত্তর পূর্বাঞ্চল এবং সেই সব এলাকার সীমান্তবর্তী ভা’রতের পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় ব’ন্যাপ্রবণ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়ছে। কোনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা’র উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবার কোনো কোনো নদ-নদীর পানি শনিবারের মধ্যে বিপৎসীমা অ’তিক্রম করার আভাস রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের ছয় জে’লার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে ব’ন্যা পরিস্থিতির, যা আগামী তিন দিনে আরও অবনতি হবে বলে আশ’ঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ব’ন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কী’করণ কেন্দ্র। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, বর্তমানে ধরলা ও তিস্তার পানি বিপৎসীমা’র উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নীলফামা’রীর চরাঞ্চলে ব’ন্যা দেয়া দিয়েছে। পানি বাড়ছে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা সুরমা, কুশিয়ারা, খোয়াই, মনু, মেঘনা, সাঙ্গুসহ সব প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানির উচ্চতা। আগামী সোমবার নাগাদ এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।

কুড়িগ্রাম জে’লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইস’লাম জানান, পানি যে হারে বাড়ছে তাতে ব’ন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। কুড়িগ্রাম শহর রক্ষা বাঁধ সম্প্রতি সংস্কার করায় এবার ধরলার পানি শহরে আসতে পারবে না। তবে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমা’রসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় দুই শতাধিক চর ও দ্বীপচরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় নিমজ্জিত হয়েছে ফসল ও গ্রামীণ সড়ক। পানিব’ন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীতীর ভাঙনের মাত্রা কিছুটা কমেছে জানিয়ে আরিফুল ইস’লাম বলেন, এছাড়া কিছু ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। এদিকে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিনদিন ভা’রী বৃষ্টি হতে পারে। এতে পানি বেড়ে ছয় জে’লার আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হবে। এছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের জে’লাগুলোতে মধ্য ও স্বল্পমেয়াদি ব’ন্যা বিস্তৃত হতে পারে বলে শ’ঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব’ন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কী’করণ কেন্দ্র এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মক’র্তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ