সকাল ৬:৫৯ | রবিবার | ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

প্রাণ আপ

pran-up-add

মহানবী (সা.) জন্মদিনে কী করতেন

গোটা বিশ্বের জন্য রহমত হয়ে এসেছিলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। কবে তিনি এ বিশ্বে তাশরিফ এনেছেন? এ বিষয়ে মতভেদ দেখা যায়।

সিদ্ধ অভিমত হলো, মহানবী (সা.) ১২ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেছেন। হাদিসবিশারদ ও ঐতিহাসিকদের কাছে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য অভিমত হলো, আবরাহার হস্তীবাহিনীর বিনাশপ্রাপ্তির ৫০ থেকে ৫৫ দিন পর রাসুল (সা.) ৮ রবিউল আউয়াল সোমবার সুবহে সাদিকের সময় আবু তালিবের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), জুবাইর ইবনে মুতঈম (রা.), আল্লামা ইবনুল জাওজি, কুতুবউদ্দীন কাসতালানি (রহ.)সহ বেশির ভাগ মুহাদ্দিস ও জীবনীকার এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

প্রখ্যাত ঐতিহাসিক মুহাম্মদ সুলাইমান মানসুরপুরী ও মাহমুদ পাশার অনুসন্ধানি অভিমত হলো, রাসুল (সা.)-এর জন্ম তারিখ ৯ রবিউল আউয়াল। ইংরেজি পঞ্জিকা মতে, তারিখটি ছিল ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ২০ অথবা ২২ এপ্রিল।

মহানবী (সা.) যে যুগে জন্মগ্রহণ করেছেন, সে যুগে জন্ম তারিখ রেজিস্ট্রি করে রাখার প্রথা ছিল না। সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোতেও এ রেওয়াজ ছিল না। সে হিসেবে রাসুল (সা.)-এর জন্ম তারিখও কোথাও লিপিবদ্ধ ছিল না। তাই তাঁর জন্ম তারিখ ১২ রবিউল আউয়াল কি না, তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

তবে ১২ রবিউল আউয়াল রাসুল (সা.)-এর ওফাত হওয়ার ব্যাপারে কারো মতবিরোধ নেই। কেননা তত দিনে তিনি বিশ্বনবী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন করে ফেলেছেন। গোটা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তাই মানুষ গুরুত্বের সঙ্গে তাঁর ওফাত দিবসের তারিখ স্মরণে রেখেছে। সুতরাং যদি মেনে নেওয়া হয় যে ১২ তারিখ রাসুল (সা.)-এর জন্ম তারিখ, তাহলে দেখা যায় ওই দিনই তাঁর ওফাত দিবস। কাজেই এই দিন একই সঙ্গে আনন্দ ও বেদনার।
যদি জন্ম তারিখের দিকে থাকাই, তাহলে এটা খুশির দিন। আবার রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালও যেহেতু এই দিনে, সে হিসেবে দিনটি দুঃখেরও দিন।

প্রশ্ন হলো, আমরা দিনটি কিভাবে উদ্যাপন করব? আমরা দেখতে পাই, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেইনের যুগে তাঁরা খুশির দিবস হিসেবেও পালন করেননি, শোক দিবস হিসেবেও পালন করেননি।

বরং আমরা দেখতে পাই, মহানবী (সা.) জন্ম তারিখ নয়, জন্ম বার বা জন্মের দিন উদ্যাপন করতেন। কিন্তু সে উদ্যাপনও কোনো উৎসব, মিছিল বা ভোজনরসিকতার মাধ্যমে নয়। মহানবী (সা.) তাঁর জন্মের দিন সোমবার রোজা রাখতেন। হাদিসবিশারদরা লিখেছেন, মহানবী (সা.)-এর জন্মের কারণে প্রতি সোমবার রোজা রাখা মুস্তাহাব।

হজরত আবু কাতাদাহ আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘মহানবী (সা.)-কে সোমবার রোজা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ওই দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি। ওই দিনই আমি নবুয়ত লাভ করেছি বা আমার ওপর ওহি অবতীর্ণ হয়।”

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ইসলামের পথে নিবেদিত প্রাণ মশিউর রহমান (বাবু)

» নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিলেন প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা

» উদ্বোধন হলো গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু

» জাতিসংঘের তিনটি শর্ত মেনে নেওয়ার কারণে মির্জা ফখরুল কে বৈঠকে আমন্ত্রণ

» ৩ ঘণ্টায় গুজব চিহ্নিত করে জবাব দেবে সরকার: তারানা হালিম

» মোটর সাইকেল শিল্পে ১৫ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য

» শিশুর মনোযোগ বাড়ানোর উপায়

» খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে কি না, জানতে চান বিচারক

» রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে চাপ অব্যাহত আছে

» এপিএলে দল পেয়েছেন তামিম

» ২৯ সেপ্টেম্বর শুরু যুব এশিয়া কাপ

» মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধা পাবেন ভাই-বোনও

» রপ্তানিতে নগদ সহায়তায় যুক্ত হলো আরো ৯ পণ্য

» শেষ পর্যন্ত মাহিও এই ব্যবসায়!

» জটিল রোগে ভুগছেন আনুশকা

Biggapon

Biggapon

সদস্য মণ্ডলীঃ-

সম্পাদকঃ এ, বি মালেক (স্বপ্নিল)
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ লতিফুল ইসলাম
উপদেষ্টাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
আইটি উপদেষ্টাঃ মাহির শাহরিয়ার শিশির
আইটি সম্পাদকঃ আসাদ্দুজামান সাগর
প্রকাশক ও নির্বাহী পরিচালক (CEO):
ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)

যোগাযোগঃ-

৮৬৮ কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ-১২১৬।
ইমেইলঃ info@dailynewsbd24.com, dailynewsbd247@gmail.com,
ওয়েবঃ www.dailynewsbd24.com
মোবাইলঃ +৮৮-০১৯৯৩৩৩৯৯৯৪-৯৯৬,
+৮৮-০১৭২১৫৬৭৭৮৯

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited

,

মহানবী (সা.) জন্মদিনে কী করতেন

গোটা বিশ্বের জন্য রহমত হয়ে এসেছিলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। কবে তিনি এ বিশ্বে তাশরিফ এনেছেন? এ বিষয়ে মতভেদ দেখা যায়।

সিদ্ধ অভিমত হলো, মহানবী (সা.) ১২ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেছেন। হাদিসবিশারদ ও ঐতিহাসিকদের কাছে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য অভিমত হলো, আবরাহার হস্তীবাহিনীর বিনাশপ্রাপ্তির ৫০ থেকে ৫৫ দিন পর রাসুল (সা.) ৮ রবিউল আউয়াল সোমবার সুবহে সাদিকের সময় আবু তালিবের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), জুবাইর ইবনে মুতঈম (রা.), আল্লামা ইবনুল জাওজি, কুতুবউদ্দীন কাসতালানি (রহ.)সহ বেশির ভাগ মুহাদ্দিস ও জীবনীকার এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

প্রখ্যাত ঐতিহাসিক মুহাম্মদ সুলাইমান মানসুরপুরী ও মাহমুদ পাশার অনুসন্ধানি অভিমত হলো, রাসুল (সা.)-এর জন্ম তারিখ ৯ রবিউল আউয়াল। ইংরেজি পঞ্জিকা মতে, তারিখটি ছিল ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ২০ অথবা ২২ এপ্রিল।

মহানবী (সা.) যে যুগে জন্মগ্রহণ করেছেন, সে যুগে জন্ম তারিখ রেজিস্ট্রি করে রাখার প্রথা ছিল না। সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোতেও এ রেওয়াজ ছিল না। সে হিসেবে রাসুল (সা.)-এর জন্ম তারিখও কোথাও লিপিবদ্ধ ছিল না। তাই তাঁর জন্ম তারিখ ১২ রবিউল আউয়াল কি না, তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

তবে ১২ রবিউল আউয়াল রাসুল (সা.)-এর ওফাত হওয়ার ব্যাপারে কারো মতবিরোধ নেই। কেননা তত দিনে তিনি বিশ্বনবী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন করে ফেলেছেন। গোটা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তাই মানুষ গুরুত্বের সঙ্গে তাঁর ওফাত দিবসের তারিখ স্মরণে রেখেছে। সুতরাং যদি মেনে নেওয়া হয় যে ১২ তারিখ রাসুল (সা.)-এর জন্ম তারিখ, তাহলে দেখা যায় ওই দিনই তাঁর ওফাত দিবস। কাজেই এই দিন একই সঙ্গে আনন্দ ও বেদনার।
যদি জন্ম তারিখের দিকে থাকাই, তাহলে এটা খুশির দিন। আবার রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালও যেহেতু এই দিনে, সে হিসেবে দিনটি দুঃখেরও দিন।

প্রশ্ন হলো, আমরা দিনটি কিভাবে উদ্যাপন করব? আমরা দেখতে পাই, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেইনের যুগে তাঁরা খুশির দিবস হিসেবেও পালন করেননি, শোক দিবস হিসেবেও পালন করেননি।

বরং আমরা দেখতে পাই, মহানবী (সা.) জন্ম তারিখ নয়, জন্ম বার বা জন্মের দিন উদ্যাপন করতেন। কিন্তু সে উদ্যাপনও কোনো উৎসব, মিছিল বা ভোজনরসিকতার মাধ্যমে নয়। মহানবী (সা.) তাঁর জন্মের দিন সোমবার রোজা রাখতেন। হাদিসবিশারদরা লিখেছেন, মহানবী (সা.)-এর জন্মের কারণে প্রতি সোমবার রোজা রাখা মুস্তাহাব।

হজরত আবু কাতাদাহ আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘মহানবী (সা.)-কে সোমবার রোজা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ওই দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি। ওই দিনই আমি নবুয়ত লাভ করেছি বা আমার ওপর ওহি অবতীর্ণ হয়।”

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সদস্য মণ্ডলীঃ-

সম্পাদকঃ এ, বি মালেক (স্বপ্নিল)
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ লতিফুল ইসলাম
উপদেষ্টাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
আইটি উপদেষ্টাঃ মাহির শাহরিয়ার শিশির
আইটি সম্পাদকঃ আসাদ্দুজামান সাগর
প্রকাশক ও নির্বাহী পরিচালক (CEO):
ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)

যোগাযোগঃ-

৮৬৮ কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ-১২১৬।
ইমেইলঃ info@dailynewsbd24.com, dailynewsbd247@gmail.com,
ওয়েবঃ www.dailynewsbd24.com
মোবাইলঃ +৮৮-০১৯৯৩৩৩৯৯৯৪-৯৯৬,
+৮৮-০১৭২১৫৬৭৭৮৯

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited